৮ মে ২০১৩ - ১৯:৩০
মতিঝিলে কি হয়েছে তদন্ত করুন: অ্যামনেস্টি

বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মতিঝিলে রোববার রাতে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হামলার সময় ঠিক কি ঘটেছে তা জানানোর জন্য শিগগিরি একটি তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা- অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

বার্তা সংস্থা আবনা : বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার মতিঝিলে রোববার রাতে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হামলার সময় ঠিক কি ঘটেছে তা জানানোর জন্য শিগগিরি একটি তদন্ত কমিটি গঠনের আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা- অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। একইসঙ্গে সংস্থাটি বলেছে, কেন এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে তাও জানাতে হবে। গতরাতে এ নিয়ে সংস্থাটি সুস্পষ্ট বিবৃতি প্রকাশ করেছে।

এতে আরো বলা হয়, গত ৫ ও ৬ মে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে হেফাজতে ইসলামের সংঘর্ষে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গুলিতে ঠিক কতজনের মৃত্যু হয়েছে তা এখনো পরিষ্কার নয়। বরং এ নিয়ে নানা ধরনের সন্দেহ-সংশয় দেখা দিয়েছে। তাই জরুরিভিত্তিতে একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যামনেস্টির এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের উপ পরিচালক পলি ট্রাস্কট। পুলিশের শক্তি প্রয়োগের বিষয়টিও তদন্তে দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ৫ মে’র সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশ চারজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেও ৬ মে প্রথম প্রহরে মতিঝিল এবং ওইদিন অন্যান্য স্থানে ঠিক কতজনের মৃত্যু হয়েছে সে ব্যাপারে পুলিশ নীরব।

অবশ্য, হেফাজতে ইসলাম দাবি করেছে তাদের তিন হাজার নেতা-কর্মী শহীদ এবং দশ হাজারের বেশি আহত হয়েছেন।

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে চরম সহিংসতাপূর্ণ উল্লেখ করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল তার বিবৃতিতে জানিয়েছে, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক রীতি-নীতি ও নিয়ম-কানুন মেনে চলতে হবে। এ বিষয়ে তাদের নিশ্চয়তা দিতে হবে যে, তারা বিক্ষোভকারীদের ওপর বাড়তি বল প্রয়োগ করবে না। 

অ্যামনেস্টি আরো বলেছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আত্মরক্ষার প্রশ্ন কিংবা মৃত্যু অথবা মারাত্মক আহত হওয়ার ঝুঁকি দেখা দিলেই কেবল আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা উচিত। এটি হবে শেষ পদক্ষেপ; তবে স্বাভাবিক পন্থায় লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ থাকলে অবশ্যই তা করা যাবে না।

এদিকে, বাংলাদেশের প্রধান বিরোধীদল বিএনপি এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। মঙ্গলবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির নেতারা এক যৌথ বিবৃতিতে  অভিযোগ করেছেন, গত ৫ মে মধ্যরাতে মতিঝিলে অবস্থানরত হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীদের ওপর যৌথবাহিনী গণহত্যা চালিয়েছে। এ ঘটনা বৃটিশ শাসনামলের কুখ্যাত জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকাণ্ডকেও হার মানিয়েছে বলে বিএনপি মন্তব্য করেছে।

তবে, বিএনপি মুখপাত্র আজ এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে মতিঝিলের যৌথ বাহিনীর অভিযানে হতাহতের বিষয়ে সরকারের কাছে প্রেসনোট দাবি করেছেন। হরতালের প্রথম দিন আজ (বুধবার) সকালে চেয়ারপরাসনের উপদেষ্টা শামসুজ্জামান দুদু নয়াপল্টনে বিএনপি’র প্রধান কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের কাছে ওই রাতের অভিযানে হতাহতের বিবরণ দাবি করেছেন। 

অন্যদিকে, জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদীন ফারুক আজ বলেছেন, গত রোব ও সোমবার পুলিশের গুলিতে কতজন নিহত হয়েছে সে হিসাব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দিন খান আলমগীরকে দিতে হবে।

তিনি বলেন, “রোববার দিবাগত রাতে মতিঝিলে পুলিশের গুলিতে নির্বিচারে হেফাজতের যে মানুষ মরেছে, তাদের লাশ ২৫টি ময়লার গাড়ি ও কাভার্ড ভ্যানে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।”